শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জোরালো হয়ে উঠছে একটি কৌশলগত প্রশ্ন- যুদ্ধের এই তীব্রতা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রের মজুত কি দুই পক্ষের আছে? যুদ্ধের ময়দানে কেবল সাহসিকতা নয়, বরং অস্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ যে কোনো পক্ষের জয়ের পাল্লা ভারী করে দেয়। আর এখানেই এখন চিন্তার ভাঁজ বিশ্লেষকদের কপালে।
দাবি ও পাল্টা দাবির লড়াই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার কার্যত ‘অফুরান’। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের প্রতিরোধ সক্ষমতা ওয়াশিংটনের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। যেভাবে দুই পক্ষই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ খরচ করছে, সেই গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করা যেকোনো দেশের জন্যই এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা
তেল আবিবভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’-এর তথ্যমতে, ইরান এ পর্যন্ত ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে পশ্চিমা সামরিক পর্যবেক্ষণ বলছে, তেহরানের হামলার তীব্রতা শুরুর তুলনায় অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে।
মার্কিন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৮৬ শতাংশ কমেছে। এমনকি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের ব্যবধানে এই হার কমেছে ২৩ শতাংশ। ড্রোনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র; ওড়ানোর হার কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ। ধারণা করা হয়, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের হাতে দুই হাজারের মতো স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েক হাজার ‘শাহেদ’ ড্রোন ছিল।
কৌশল পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সামরিক শক্তিতে বিশ্বের শীর্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ অন্য জায়গায়। তাদের অধিকাংশ অস্ত্রই অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অত্যাধুনিক, যা তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
বর্তমানে মার্কিন বাহিনী টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মতো দামি অস্ত্রের বদলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ‘জেডিএএম’ (JDAM) বোমা ব্যবহারে বেশি মনোযোগী হচ্ছে। বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান মনে করেন, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কৌশলী পরিবর্তন।
প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও আগামীর সংকট
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একেকটি প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলারের বেশি। ইউক্রেন সংকট এবং মিত্রদের চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতেও টান পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বছরে মাত্র ৭০০টি প্যাট্রিয়ট তৈরির সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তাদের হাতে ১৬০০টির মতো মিসাইল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে দুই পক্ষকেই তাদের সামরিক কৌশল এবং অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রায় বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হবে। তবে সার্বিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, ইরান তাদের ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কতক্ষণ লড়াই টিকিয়ে রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা